হিন্দি গল্প : জ্বলন্ত বাড়ির নীচে কয়েকটি মানুষ।
গল্পকার : রাজকমল চৌধুরী - ১৪ পাতায়।
ইংরেজি গল্প : সাইকেল চড়া সেই লোকটা।
গল্পকার : গৌতম বেনেগাল - ১৮ পাতায়।
গল্পকার : রাজকমল চৌধুরী - ১৪ পাতায়।
অনুবাদ : বিশ্বজিৎ সেন।
গল্পকার : গৌতম বেনেগাল - ১৮ পাতায়।
অনুবাদ : অরুণা মুখোপাধ্যায়।
লেখক পরিচিতি :
রাজকমল চৌধুরী
রাজকমল চৌধুরীর গুণমুগ্ধ অনেকেরই আক্ষেপ, যে কবি হিসাবে তিনি যতটা
খ্যাতিপ্রাপ্ত, গদ্য লেখক হিসাবে ততটা নয়। অথচ রাজকমল একজন অত্যন্ত শক্তিধর
গদ্যলেখক, এবং তাঁর সমকালীনদের চাইতে একেবারে অন্যরকমভাবে নিজেকে ব্যক্ত করতে
পারার ক্ষমতা করায়ত্ত ছিল তাঁর। তথাপি, হিন্দি গদ্য লেখকদের তালিকায় তাঁর নাম আসে
একেবারে নীচের দিকে এবং তাঁর রচনা বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভূক্ত প্রায় হয়
না বললেই চলে।
এর কারণ অবশ্যই তাঁর তীব্র প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা। প্রতিষ্ঠানের
পৃষ্ঠপোষকতা অনায়াসে অর্জন করতে পারতেন, তেমন সব কটি যোগ্যতাই ছিল তাঁর।
জাতিসূত্রে ব্রাক্ষ্মণ, দেখতে সুদর্শন এবং সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রে অনায়াস যাতায়াত।
কিন্তু সেই সঙ্গে যৌন অবদমনের প্রবল বিরোধী, শাসকশ্রেণীর সবরকম গোঁজামিলের স্বরূপ
উদ্ঘাটনে সদৈব তৎপর। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বামপন্থীজাত এবং বর্ণহিন্দু একাধিপত্যের
বিরোধিতা্য নিরলস। এরকম একজন মানুষকে সাহিত্য ও রাজনীতির প্রতিষ্ঠান যে সাত হাত দূরে
রাখতে চাইবে, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কী আছে? বিশেষ করে প্রদেশটি যখন বিহার, যেখানে
সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতিটি ধাপে স্থিতাবস্থাপন্থীদের দাপট।
রাজকমল চৌধুরী বেঁচে ছিলেন মাত্র ৩৮ বছর (১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯২৯ –
১৯ জুন, ১৯৬৭)। এই সংক্ষিপ্ত জীবনে তাঁর রচনার পরিমান প্রায় অবিশ্বাস্য। ১২টি
উপন্যাস, ৬টি কবিতা সংগ্রহ ও ৬ গল্প সমগ্র। এছাড়াও দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
প্রবন্ধ সংগ্রহের রচয়িতা তিনি। পাণ্ডেয় বেচন শর্মা ‘উগ্র’র গল্প সমগ্রের সম্পাদনাও
করেছেন রাজকমল চৌধুরী।
চাকরিসূত্রে দীর্ঘদিন কলকাতায় থাকতে হয়েছে তাঁকে। এই পর্যায়ে
শঙ্করের ‘চৌরঙ্গী উপন্যাসের হিন্দি অনুবাদ করেছেন তিনি। এই অনুবাদটি অদ্যবধি ‘বেষ্ট
সেলার’ তালিকার অন্তর্ভূক্ত। মাতৃভাষা মৈথিলিও রাজকমলের দাক্ষিণ্য থেকে বঞ্চিত হয়
নি। মৈথিলি ভাষাতেও ভালো পরিমাণে সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন তিনি।
‘জলন্ত বাড়ির নীচে কয়েকটি মানুষ’গল্পটি যদিও বহু বছর আগে লেখা
তবু যেন আজকের ভারতের কথাই বলে, যেখানে রজ্জুতে সর্পভ্রম এবং সর্পে রজ্জুভ্রম
আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা নিষিদ্ধ আমোদ প্রমোদে মত্ত,
অথচ আমাদের ঠিক মাথার ওপরেই মহাকালের খানাতল্লাসি চলছে। বিশ্বায়ন কবলিত ভারতের এর
চাইতে নিখুঁত চিত্রণ আর হতে পারে না, এই বোধসহ গল্পটি অনুদিত হল, সম্ভবত বাংলা
ভাষায় এই প্রথম।
গৌতম বেনেগাল
:
কলকাতায় বড়ো হওয়া লেখক, পুরস্কৃত অ্যানিমেশন ফিল্ম মেকার,
কার্টুনিস্ট গৌতম বেনেগাল বর্তমানে মুম্বাইবাসী। তাঁর গল্প কলকাতার পাড়ার স্মৃতির
সোঁদা স্বাদ গন্ধে মেদূর। মুম্বাইয়ের চোখধাঁধানো গ্লামার ভোলাতে পারেনি বন্ডেল রোডের
সাদামাটা শৈশবকাল, প্রতিটি গল্পে তারা হার্মাদের মতো হানা দিয়েছে বর্তমানের
সুপ্রতিষ্ঠত যুবক গৌতমের একান্ত আবসরগুলির ওপর। ছিনিয়ে নিয়েছে ব্যস্ততম তাঁর সময়।
বাধ্য করেছে নস্টালজিয়ায় ভরা হারানো সরল সেই দিনগুলিকে কাগজে এঁকে রাখতে। নাবালক
শিশু/কিশোরেরব চোখ দিয়ে অনেকটা ক্যামেরা ঘুরিয়ে যেন তিনি সাবালক প্রাপ্তবয়স্কদের
জগৎটা শব্দে ডকুমেন্টারি ছবির মত করে সাজিয়েছেন। এটাই তাঁর বৈশিষ্ট্য। অত্যন্ত
মুন্সিয়ানার সঙ্গে শিশুমনের জটিলতার কাটাকুটিবিহীন রহস্যময় খেলা, বয়স্ক মানুষজনের
অকারণ খল কপটতা, অবজ্ঞা, তাচ্ছিল্য, হেয় করার প্রবণতায় বিস্মিত, হতচকিত শিশুমানস
তুলে ধরেছেন তাঁর ইংরেজি ভাষায় লেখা ‘1/7
Bondel Road’ গল্প সংকলনটিতে। বর্তমান
গল্পটি সেই গ্রন্থটি থেকে আহৃত।
No comments:
Post a Comment